লরিক্স প্লাস লোশন ব্যবহারের নিয়ম | লরিক্স প্লাস লোশন এর দাম

বন্ধুরা আপনি কি লরিক্স প্লাস লোশন ব্যবহারের নিয়ম সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন? তাহলে আমাদের আজকের এই আলোচনা আপনার জন্যই। আজকে আমরা লরিক্স প্লাস লোশন ব্যবহারের নিয়ম, পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া এবং সতর্কতা ইত্যাদি নিয়ে কথা বলব।

সবার প্রথমে একটি ধারণা নেওয়া উচিত যে লরিক্স প্লাস লোশন কেন ব্যবহার করা হয় এটির কাজ কি? লরিক্স প্লাস লোশন সাধারণত চুলকানির জন্য ব্যবহার করা হয়।

পুরাইটিস, চুলকানি, রাশ ইত্যাদি রোগগুলো চিকিৎসার জন্য ডাক্তাররা এ লোশনটি ব্যবহারের জন্য বলেন। এসব রোগের চিকিৎসার ক্ষেত্রে এই লরিক্স প্লাস লোশনটি অনেক কার্যকরী এবং দ্রুত গতিতে কাজ করায় সবাই ব্যবহার করতে পছন্দ করে।

Read More : ক্যালামাইন লোশন ব্যবহারের নিয়ম – ক্যালামাইন লোশন দাম ও কাজ

লরিক্স প্লাস লোশন ব্যবহারের নিয়ম

প্লাস প্লাস লোশন ব্যবহারের আগে কিছু নিয়ম বিধি মেনে চলতে হবে। এরপর এই লোশনটি নিজের ত্বকে ব্যবহার করতে হবে। সর্বপ্রথম কাজ থেকে শুরু করে সর্বশেষ কাজ পর্যন্ত সকল ব্যবহার বিধি বলে দেওয়া হবে। দয়া করে বিস্তারিতভাবে পড়ে নিন।

  1. হালকা সুষম গরম পানি ও সাবান দিয়ে ভালো করে গোসল করে নিতে হবে।
  2. গোসলের পর শরীর গরম থাকলে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে শরীরে তাপমাত্রার যেন স্বাভাবিকে নেমে আসুক।
  3. এরপর আপনার ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনে যতটুকু লোশন ব্যবহার করতে বলেছে সেটি মিশিয়ে নিন।
  4. সাধারণ ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য (১/২) আধা চামচ লোশন ব্যবহার করতে হবে।
  5. যতটুকু লোশন নিবেন এর ২ ভাগ নারিকেল তেল নিয়ে মিশিয়ে নিতে হবে।
  6. এরপর মাথা থেকে শুরু করে পায়ের নখ পর্যন্ত শরীরের সকল স্থানে এই লোশনটি লাগিয়ে নিতে হবে।
  7. উল্লেখ্য যে যৌনাঙ্গের বাইরের ত্বকেও এ লোশনটি লাগাতে হবে।
  8. মুখের আশেপাশে ও চোখের আশেপাশের স্থান ছেড়ে দিতে হবে।
  9. যে মায়ের মাতৃদুগ্ধ বাচ্চা পান করে তার বুকের বোটার আশেপাশের স্থান ছেড়ে দিতে হবে।
  10. এই লোশন শরীরে ব্যবহার করার পর সর্বনিম্ন ০৮ ঘন্টা থেকে সর্বোচ্চ ১২ ঘণ্টা এভাবেই রেখে দিতে হবে।
  11. ০৮ থেকে ১২ ঘন্টা পর আবারো গরম পানি দিয়ে ভালো করে গোসল করে নিতে হবে।
  12. উল্লেখ্য যে, যে বস্ত্র পরিধান করেছিলেন এবং যে বিছানায় ঘুমিয়ে ছিলেন। সেগুলোর চাদর ও আপনার পরিধানের কাপড়ও ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে।
  13. পরিবারের সবার যদি এই রোগগুলো থাকে। তবে পরিবারের সকল সদস্য একসাথে ব্যবহার করলে আরো ভালো হয়।
  14. ব্যবহারের পর অবশ্যই পরিবারের সকল সদস্যদের ব্যবহারের কাপড়চোপড় ও বিছানার চাদর ভালো করে গরম পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে।
আরো পড়ুন ফ্রোজেন কোলাজেন লোশন ব্যবহারের নিয়ম – এর উপকারিতা ও দাম

লরিক্স প্লাস লোশন ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা

আশা করছি লরিক্স প্লাস লোশন ব্যবহারের নিয়মগুলো আপনারা ভালো করে বুঝে গিয়েছেন। এবার ব্যবহারের পর কিছু কিছু সতর্কতা রয়েছে যে সতর্কতাগুলো অবলম্বন করা অবশ্যই জরুরি। আপনি যদি এই সতর্কতাগুলোর ব্যাপারে বিস্তারিতভাবে না জানেন।

তাহলে হতে পারে এই লোশন ব্যবহারের কারণে আপনার সুফল তো দূরের কথা উল্টো অনেকগুলো ক্ষতি হয়ে যাবে। তাহলে চলুন লরিক্স প্লাস লোশন ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমরা যে বিশেষ বিশেষ সতর্কতাগুলো মনে রাখব সেগুলো জেনে নেওয়া যাক।

  • জ্বর থাকলে বা শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকলে এ লোশন ব্যবহার করা যাবে না।
  • এ লোশোন ত্বকে লাগানোর পর ৮ থেকে ১২ ঘন্টা আগে কখনোই ধুয়ে ফেলা যাবে না।
  • ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রতি ৬ দিনে একবার ব্যবহার করা যাবে।
  • লোশনটি আপনার রোগের ধরন অনুযায়ী ১ বার ব্যবহার করুন।
  • ১ বার ব্যবহারের ফলেই এটি ঠিক হয়ে যেতে পারে।
  • তবে যদি সুস্থতা না হয় তাহলে একাধিকবার ব্যবহার করা যাবে।
  • লোশন লাগানোর পর কোন কারনে যদি হাত বা অন্যান্য অঙ্গ ধুতে হয়। তাহলে আবারও সেই স্থানে এই লোশনটি লাগিয়ে দিতে হবে।
  • এই লোশনটি শিশুদের নাগালের বাইরে রাখতে হবে।
  • কোন কারণে লোশনটি মুখের ভিতর চলে গেলে ভালো করে মুখ থেকে সেই লোশনটি বের করে নিতে হবে।

গর্ভবতী মহিলারা এই লোশনটি ব্যবহার করতে পারবেন কি?

এই পর্যন্ত লরিক্স প্লাস লোশনের রিসার্চ অনুযায়ী গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে এ লোশন ব্যবহারের তেমন কোনো সাইডএফেক্ট পাওয়া যায়নি। কিন্তু গর্ভবতী মহিলাদের জন্য এই লোশন না ব্যবহার করায় উত্তম।

তবে অনেক চিকিৎসক গর্ভবতী মহিলাদের রোগের অবস্থা বিবেচনা করে এ লোশন ব্যবহার করতে বলতে পারেন।

কিন্তু ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কখনোই আপনি নিজে নিজে গর্ভবতী অবস্থায় এ লোশন ব্যবহার করবেন না। আর গর্ভধারণের প্রথম ৩ মাসের ভিতরে লরিক্স প্লাস লোশন কোনভাবেই শরীরে ব্যবহার করা যাবে না।

তাছাড়া, যেসব মায়েদের বা নার্সিংদের বুকের দুধ বাচ্চা পান করে তাদের ক্ষেত্রে এ লোশন ব্যবহারের কথা যদি বলা যায়। তাহলে বর্তমান সময় পর্যন্ত রিসার্চ অনুযায়ী তেমন কোন তথ্য পাওয়া যায়নি যে এই লোশন বুকের দুধের সাথে মিশে শিশুর পেটে চলে যায়।

তবে, একটি কথা সবসময় মাথায় রাখতে হবে যে যেসব মায়েদের বা নার্সিংদের বুকের দুধ বাচ্চা পান করে তারা এই লোশন ব্যবহারের সময় বুকের দুধের বোটার আশেপাশে কখনোই লোশনটি ব্যবহার করবেন না। সাবধানতা অবলম্বন করুন। আর ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কখনোই এসব লোশন ব্যবহার করবেন না।

Read More : খাজানা ক্রিম এর উপকারিতা, এর দাম, Side Effects এবং রিভিউ

লরিক্স প্লাস লোশন এর পার্শপ্রতিক্রিয়া

লরিক্স প্লাস লোশন এর ব্যবহার বিধি, সতর্কতা এবং বিভিন্ন অবস্থায় এর ব্যবহারের তথ্যগুলো জেনে গেছি। কিন্তু প্রত্যেকটি মেডিসিনের একটি পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া বা সাইডএফেক্ট থেকে থাকে। তেমনি লরেক্স প্লাস লোশন এর কিছু কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া রয়েছে।

এ লোশন মাত্রাধিক ব্যবহার করলে। অর্থাৎ ব্যবহার বিধি সঠিকভাবে অনুসরণ না করলে এবং একাধিকবার এই লোশন ব্যবহার করলে এইসব পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে। লরিক্স প্লাস লোশন এর পার্শপ্রতিক্রিয়াগুলো হলো –

  1. ত্বকে জ্বালাপোড়ার সৃষ্টি হওয়া।
  2. অ্যাজমা দেখা দেওয়া।
  3. এলার্জি রোগীদের সমস্যা একটু বেড়ে যাওয়া।
  4. ত্বকে অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা।

এই সমস্যা গুলো অনেক কম লোকেরই হয়ে থাকে। কারণ এখন পর্যন্ত এই ওষুধের তেমন কোন বড় ধরনের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়নি। হাইপার সেনসিটিভ রোগীদের ক্ষেত্রে অন্যান্য মেডিসিনের সাথে এই লোশন ব্যবহারের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র অ্যাজমার সমস্যা দেখা দেয়।

Read More : পা ফাটা দূর করার ক্রিম বাংলাদেশ – স্কয়ার কোম্পানির ক্রিম

বাংলাদেশে লরিক্স প্লাস লোশন এর দাম

বর্তমান সময়ে লরিক্স প্লাস লোশন ৬০ মিলি পরিমানে পাওয়া যায়। এটি যেকোনো মেডিসিনের ফার্মেসিতে কিনতে পাওয়া যাবে। তবে এই লোশনটি ক্রয় করার জন্য ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন সাথে করে নিয়ে গেলে ভালো হবে।

এখন যদি কথা বলা যায় এর দাম নিয়ে। তাহলে, ৬০ মিলি প্যাকে বাংলাদেশে লরিক্স প্লাস লোশন এর দাম হচ্ছে ৯৯/- টাকা। কিন্তু ক্ষেত্রবিশেষে এর দাম কম বা বেশি হতে পারে।

তবে বাংলাদেশের ফার্মেসিতে সর্বনিম্ন ৯০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১১০ টাকার মধ্যে লরিক্স প্লাস ৬০ মিলি লোশনটি কিনতে পারবেন। ক্রয় করার আগে লোশনের গাঁয়ে এর মেয়াদ ভালোভাবে দেখে নিবেন। মেয়াদউত্তীর্ণ মেডিসিন কখনোই ক্রয় করবেন না।

FAQ

লরিক্স প্লাস লোশন কিসের জন্য ব্যবহার করা হয়?

পুরাইটিস, চুলকানি, রাশ ইত্যাদি রোগগুলো চিকিৎসায় লরিক্স প্লাস লোশন ব্যবহার করা হয়। এসব রোগের চিকিৎসার ক্ষেত্রে এই লরিক্স প্লাস লোশনটি অনেক কার্যকরী এবং দ্রুত গতিতে কাজ করায় চর্মবিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এই লোশনটি প্রেস্ক্রাইব করেন।

গর্ভাবস্থায় কি লরিক্স প্লাস নিরাপদ?

গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে এ লোশন ব্যবহারের তেমন কোনো সাইডএফেক্ট পাওয়া যায়নি। কিন্তু গর্ভাবস্থায় এই লোশন না ব্যবহার করায় উত্তম। তবে অনেক চিকিৎসক গর্ভবতী মহিলাদের রোগের অবস্থা বিবেচনা করে এ লোশন ব্যবহার করতে বলতে পারেন। কিন্তু সেক্ষেত্রে অনেক কঠোর সাবধানতা অবলম্বন করতে বলা হয়। তাই লোশনটি গর্ভাবস্থায় ব্যবহার করার পূর্বে চর্মবিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করুন।

লরিক্স কিসের ঔষধ?

পুরাইটিস, চুলকানি, রাশ, স্ক্যাবিস এবং প্রুরিটাস এসকল রোগ নিরাময়ের জন্য লরিক্স ঔষধ ব্যবহার করা হয়। তবে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া নিজে নিজে ব্যবহার করা যাবেনা। এতে আপনার স্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

উপসংহার

আজকের পোস্টে লরিক্স প্লাস লোশন ব্যবহারের নিয়ম সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। তাছাড়া লরিক্স প্লাস লোশন এর দাম এবং লরিক্স প্লাস লোশন ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা বিস্তারিতভাবে জানানো হয়েছে। সাথে লরিক্স প্লাস লোশন এর পার্শপ্রতিক্রিয়া সম্বন্ধে বলা হয়েছে।

আশা করছি পোস্টটি আপনার কাছে উপকারী মনে হয়েছে। তাই পোস্টটি শেয়ার করে সকলের কাছে পৌঁছে দিন। কোনো কিছু বলার ও জানার থাকলে কমেন্ট করুন। শতভাগ উত্তর দেওয়া হবে। ধন্যবাদ।

Leave a Comment